ঢাকা , বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬ , ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​রমজানে তীব্র গ্যাস সংকট: গৃহিণীদের দুর্ভোগ চরমে, সিন্ডিকেট না ব্যবস্থাপনা ব্যর্থতা?


আপডেট সময় : ২০২৬-০২-২০ ১৭:৪৩:১৫
​রমজানে তীব্র গ্যাস সংকট: গৃহিণীদের দুর্ভোগ চরমে, সিন্ডিকেট না ব্যবস্থাপনা ব্যর্থতা? ​রমজানে তীব্র গ্যাস সংকট: গৃহিণীদের দুর্ভোগ চরমে, সিন্ডিকেট না ব্যবস্থাপনা ব্যর্থতা?

এস. এম. জালাল উদদীনঃ


পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে দেশে জ্বালানি গ্যাসের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পাইপলাইন গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় স্বাভাবিক রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন গৃহিণীরা। সেহরি ও ইফতার প্রস্তুতের সময় চুলায় গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বিকল্প উপায়ে রান্না করছেন।


ভুক্তভোগীরা জানান, ভোর ও বিকেলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গ্যাসের চাপ এতটাই কম থাকে যে চুলা জ্বালানো যায় না। অনেকে ইলেকট্রিক চুলা বা এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করছেন। তবে এলপিজির বাজারেও সরবরাহ সংকট ও বাড়তি দামের অভিযোগ রয়েছে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের সঙ্গে নতুন করে জ্বালানি ব্যয় যুক্ত হয়ে সংসারে চাপ বাড়ছে।


কারণ কী?
জ্বালানি সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দেশে গ্যাসের উৎপাদন দীর্ঘদিন ধরে কমছে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার না হওয়া, পুরনো ক্ষেত্রের উৎপাদন হ্রাস এবং আমদানিনির্ভর এলএনজির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হওয়ায় এই সংকট ঘনীভূত হয়েছে।


পাইপলাইনের অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও চাপ নিয়ন্ত্রণে সমন্বয়হীনতাও সমস্যাকে বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক এলাকায় লো-প্রেশারের কারণে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সিন্ডিকেটের অভিযোগ

বাজারে গ্যাস সংকট নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘সিন্ডিকেট’ তৎপরতার অভিযোগও শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহে কৃত্রিম সংকট তৈরির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, মূল সমস্যা কাঠামোগত এবং সরবরাহ ঘাটতির ফলেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে বাজার তদারকি জোরদার না হলে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিতে পারে।


শিল্পখাতেও প্রভাব:
শুধু গৃহস্থালি নয়, শিল্পখাতেও গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়ছে। গার্মেন্টস ও উৎপাদনমুখী কারখানাগুলোতে গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কী উদ্যোগ প্রয়োজন:
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি—দুই ধরনের পদক্ষেপ জরুরি।


১. রমজানকেন্দ্রিক চাহিদা বিবেচনায় গ্যাস সরবরাহের অগ্রাধিকারভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ।
২. এলপিজি বাজারে কঠোর তদারকি ও মূল্যনিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা।
৩. জরুরি ভিত্তিতে এলএনজি আমদানি বাড়ানো ও সরবরাহ চেইন শক্তিশালী করা।
৪. পাইপলাইন সংস্কার ও প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন।
৫. দীর্ঘমেয়াদে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান এবং বিকল্প জ্বালানি উৎসে বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
রমজানের মতো সংবেদনশীল সময়ে গ্যাস সংকট জনজীবনে বাড়তি চাপ তৈরি করছে। তাই দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সরকারের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ